মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২

উইন্ডোজ স্টার্টআপের গোপন রহস্য

 

যখন টিভির সুইচ অন করা হয় তখন তাৎক্ষণিকভাবে টিভির স্ক্রিন জীবন্ত হয়ে ওঠে। একইভাবে মোবাইল ফোনের সুইচ অন করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কল করার জন্য প্রস্ত্তত হয়ে ওঠে। কিন্তু পিসির পাওয়ার সুইচ অন করার পরপরই পিসি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করার উপযোগী হয়ে উঠেছে এমনটি কী কখনো দেখা গেছে বা উপলব্ধি করতে পেরেছেন? এর উত্তর হ্যাঁ-বোধক না হয়ে যে না-বোধক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। কিন্তু কেন? আর এ বিষয়টিকে সামনে রেখেই কমপিউটার জগৎ-এর নিয়মিত বিভাগ পাঠশালায় এবার উপস্থাপন করা হয়েছে পিসি উইন্ডোজ লোড করার সময় পর্দার আড়ালে কী ঘটে এবং কিভাবে এই প্রসেসের গতিবেগ বাড়ানো যায়।

স্টার্টআপ প্রসেস

যে মুহূর্তে পিসির সুইচ অন করা হয়, পিসি কিছু সেলফ টেস্টের দায়িত্ব পালন করে যা POST বা পাওয়ার অন সেলফ টেস্ট হিসেবে পরিচিত। এটি একটি রুটিন সেট যেখানে পিসি পরীক্ষা করে দেখে প্রসেসর, মেমরি এবং হার্ডডিস্কের উপস্থিতি এবং এগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে কি না ইত্যাদি। এসব টেস্টের তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হতে পারে বা প্রস্ত্ততকারকের লোগোর আড়ালে হিডেন অবস্থায় থাকতে পারে।

ওপরে উল্লিখিত কাজগুলোর সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় বায়োসে (বেসিক ইনপুট/আউটপুট সিস্টেম) এটি মাদারবোর্ডের একটি চিপ যার রয়েছে তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরের (ROM) রিড অনলি মেমরি। বায়োস পিসিতে তৈরি করা থাকে অর্থাৎ পিসির সাথে বিল্ট-ইন অবস্থায় যায় এবং উইন্ডোজ দিয়ে কিছুই করা যায় না এখানে। এটি কমপিউটারকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে আসে যাতে অপারেটিং সিস্টেম রান করতে পারে।

এরপর মাস্টার বুট রেকর্ড (MBR)-এর জন্য বায়োস হার্ডডিস্ক অনুসন্ধান করে। বলা যায়, পিসির সাথে উইন্ডোজের এটিই প্রথম সরাসরি সংযোগ এবং যখন মাস্টার বুট রেকর্ড খুঁজে পায় তখন ক্ষণিকের জন্য স্ক্রিন খালি হয়ে যায় অর্থাৎ ব্লাঙ্ক হয়। যদি উইন্ডোজ আগে থেকেই লোড হতে ব্যর্থ হয় অথবা F8 কী চাপা হয় তাহলে একটি বুট মেনু আবির্ভূত হবে যেখানে উইন্ডোজকে তার কাজ চালিয়ে নেয়ার জন্য একটি ভিন্ন পথ অফার করবে যেমন Safe Mode এবং Last Known Good Configuration. এরপর উইন্ডোজ লোড করবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল, ড্রাইভার এবং সেটিং। এগুলো কমপিউটারের মেমরিতে দরকার হবে এবং এই সময়টি হলো সেই সময় যখন উইন্ডোজের লোগো স্ক্রিনে আবির্ভূত হবে। এ কাজটি শেষ হওয়ার পর ওয়েলকাম স্ক্রিন আবির্ভূত হয় এবং আপনাকে প্রম্পট করা হবে আপনার ইউজার অ্যাকাউন্টে লগ অন করার জন্য। অবশ্য এটি নির্ভর করছে কিভাবে উইন্ডোজকে সেটআপ করা হয়েছে তার ওপর। যেই সেটিংই প্রয়োগ করা হোক না কেনো উইন্ডোজ ডেস্কটপ আবির্ভূত হবে।

স্টার্ট প্রসেস এখানেই শেষ নয়। যদি কোনো প্রোগ্রাম উইন্ডোজের সাথে চালু করার জন্য সেট করা থাকে বা সেট করা হয়, তাহলে তা এখনই লোড হয়। যদি অনেকগুলো প্রোগ্রাম উইন্ডোজের সাথে লোড হওয়ার জন্য সেট করা থাকে, তাহলে পিসির পুরো নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য কয়েক মিনিট সময় নিতে পারে।

উইন্ডোজ লোড হওয়ার সময় সত্যিকার অর্থে কী ঘটে- তা যদি দেখতে চান, তাহলে Windows কী চেপে ধরে R চাপুন রান ডায়ালগ বক্স প্রদর্শনের জন্য। এরপর কমান্ড বক্সে Msconfig টাইপ করে এন্টার চাপুন। এর ফলে চালু হয় ‘সিস্টেম কনফিগারেশন’ নামের টুল। সুইচ করুন Boot ট্যাবে (এক্সপির ক্ষেত্রে BOOT.INI) এবং ‘OS boot information’-এ টিক করুন বা এক্সপির ক্ষেত্রে ‘/SOS’-এ টিক করুন। এরপর Ok-তে ক্লিক করে রিস্টার্ট করুন পর্দার আড়ালে কী ঘটে তা দেখার জন্য।

গতি বাড়ানো

পিসির সুইচ অন করার পর থেকে উইন্ডোজ সক্রিয় তথা কর্মক্ষম হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষার সময় যতদিন যাবে ততই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকবে। তবে কিছু সাধারণ কৌশল অবলম্বন করার মাধ্যমে পিসির পূর্বের অবস্থার কিছুটা ফিরে পাওয়া যায়।

এজন্য প্রথমে (উইন্ডোজ ৭ এবং ভিস্তার ক্ষেত্রে) Programs and Features বা এক্সপির ক্ষেত্রে Add or Remove Programs ওপেন করতে হবে Control Panel থেকে এবং পিসিতে ইনস্টল করা প্রোগ্রামের লিস্ট পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যে প্রোগ্রামকে আপনি কখনই ব্যবহার করবেন না, তা অপসরণ করুন। পিসিতে ইনস্টল করা প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে যদি কোনো প্রোগ্রাম উইন্ডোজের সাথে স্টার্ট হওয়ার জন্য সেট করা থাকে, তাহলে সেই সব প্রোগ্রাম অপসারণ করলে উইন্ডোজের স্টার্টআপ প্রসেসের গতি বেশ বেড়ে যাবে স্বাভাবিকভাবে।

এরপর পরবর্তী ধাপে খেয়াল করে দেখুন উইন্ডোজের সাথে কোন কোন প্রোগ্রাম চালু হয়। আর এ কাজটি করার জন্য Start-এ ক্লিক করে সিলেক্ট করুন All programs এবং এরপর সিলেক্ট করুন Startup। এর ফলে প্রোগ্রাম লিস্টেড হবে যেগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি পিসির জন্য দরকারি হতে পারে যেমন অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম। তবে এসব প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ছাড়া অন্যান্য প্রোগ্রাম রিমুভ করলে সিস্টেমের ফাংশনালিটিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।

msconfig টুলকে ব্যবহার করা যেতে পারে প্রোগ্রাম ভিউ করার জন্য এবং কোনো প্রোগ্রামকে ডিজ্যাবল করার জন্য যা উইন্ডোজের সাথে চালু হয়। আর এজন্য startup ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। তবে প্রতিটি এন্ট্রি কী কাজে ব্যবহার হয় তা নিরূপণ করা। তাই এক্ষেত্রে ফ্রি টুল starter ব্যবহার করা যেতে পারে যা www.snipca.com/x1281 সাইট থেকে ফ্রি ডাউনলোড করা যাবে। এবার নিচে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করে অপ্রয়োজনীয় আইটেমগুলো ডিজ্যাবল করা যেতে পারে।

সোমবার, ৬ জুন, ২০১১

New features in Picasa 3.8

New features in Picasa 3.8

গল্প


বন্ধু তুই ভীষন ভাল

মানুষের সাথে জড়িয়ে থাকা সম্পর্কগুলো অদ্ভুত।সম্পর্কগুলো নিজ কাঠামোর শক্তি বলে ব্যাক্তিকে পরিচালিত করে। পরিচালিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতাধর সম্পর্ক হল বন্ধুত্ব।মানুষের আত্নিক চাহিদার সবটুকু পূরণ করে বন্ধু্।এটা বিরতিহীন সম্পর্ক।ছোট বেলায় বেড়ে উঠার সঙ্গি থেকে শুরু করে অফিসের কলিগ যে কেউ বন্ধু হয়ে যেতে পারে।বন্ধুত্বের কোন সঠিক মাপকাঠি নেই।

ভার্সিটি লাইফে আপনারা ৮-১০ জন একসাথে চলা ফেরা কনতেন।৮-১০ জনই আপনার বন্ধু।তবে এসব দলে দেখা যায় দুতিন জনের উপদল আছে।আপনার ৫০ জন ভাল বন্ধু থাকতে পারে।তবে দুএক জন থাকে বিশেষ বন্ধু।আমি আসলে সেই বন্ধুটির কথাই বলছি।এই রকম বন্ধু দেখবেন আপনার প্রতিটি পদক্ষেপে জড়িয়ে আছে।১০ জনকে যে কথা বোঝাতে পারছেন না, নিমেষেই সে বুঝে ফেলবে।আমি জানি পড়ার ঠিক এই মূহুর্তে আপনার প্রিয় সে বন্ধুটির চেহরা চোখে ভাসছে।আসলেই এটাই বন্ধুত্ব।সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই সম্পর্কটি প্রচার হয়না।আপনি আপনার প্রেমিক/প্রেমিকাকে সকাল বিকাল দুবেলা ভালবাসার কথা জানিয়ে দিন, অথচ খেয়াল করে দেখেছেন প্রিয় বন্ধুটিকে কখনো বলা হয়না।আমারতো আমার সেরা বন্ধুটির সামনে বলতেই লজ্জা করে যে সে আমার সেরা বন্ধু।তাকে কখনই জানাতে ইচ্ছা হয়না আমি তাকে কতটা ভালবাসি।সে বুঝে, আমিও বুঝি।কারন সব অনুভতির গন্তব্যস্হলতো সে।আপনাদের কি এমন হয়?

পরিবারে কোন সমস্যা হলে অকপটে বন্ধুর কাছে বলা যায়।কিন্তু বন্ধুর সাথে সমস্যা হলে সেটা কিন্তু পরিবারে বেশীরভাগ সময় বলা হয় না।আমি কিন্তু বলছিনা পরিবারের চেয়ে বন্ধুর গভীরতা বেশী।এটা্ই আসলে বন্ধুত্বের ধরন।মানুষের দুঃখ পাএয়ার মৌলিক কিছ কারন রয়েছে।যা প্রায় সব মানুষের জীবনে কম বেশী ঘটে। পরিবার থেকে পাওয়া দুঃখ, ভালবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া দুঃখ, অর্থনৈতিক দুঃথ।এসব দুঃখ অকপটে বন্ধুর কাছে বলে ফেলা যায়।কিন্তু সেই ব্যাক্তি পৃথিবীর সবচেয়ে দুখী যে প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে দুঃখ পেয়েছে।তার যে বলা কেউ রইলোনা।

অনেককেই বলতে শুনি নারীর কারনে নাকি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়? কি আজব কথা? যে বন্ধুত্ব নারীর কারনে নষ্ট হয় সে বন্ধুত্ব হল চরিত্রহীন কোন ব্যাক্তির দেহলোভী প্রেমের মত। নিজেরা যদি নিজেদের মধ্যে পরিস্কার থাকা যায় তবে স্বয়ং ঐশ্বরিয়ারও সাধ্য নাই আপনাদের বন্ধুত্ব নষ্ট করে।

এবার আসুন আপনাদের বন্ধুত্বে চিরায়িত কিছু সাধারন রুপ দেখাই।যা আমাদের দেশে সব শ্রেণীর বন্ধুদের মাঝে ঘটে থাকে।দ্বি-মত পোষন করলে বলবেন।

১. যত বড়ই হোন না কেন খাওয়ার পর বিল নিয়ে সমস্যা হবে। ছাত্র অবস্থায় একজনের বিল আরেক জনের উপর চাপিয়ে দেয়া চেষ্টা চলে।আজকে তুই দে, না তুই দে। আর আয় রোজগার করার পর নিজে বিল দেয়ার আপ্রান চেষ্টা চলে।আজ আমি দিই, না না আমি দিই। (বন্ধু যদি কৃপন হয় তবে ছাত্র অবস্হার দ্রষ্টাব্য)

২. ভাড়া নিয়ে গ্যান্জাম হবেই।তুই মোটা তুই জায়গা বেশী নিছিস,তাই ভাড়া তুই দিবি।অথবা রিকশা তুই ডাকছিস,তুই দে।আমার এক বন্ধু ছিল বাসে উঠলে ভাড়া দেয়ার ভয়ে ঘুমিয়ে যেত্ ফায়ার সার্ভিস দিয়েও তাকে তখন ঘুম থেকে তোলা যেতনা।

৩. আরেকটা ব্যাপার হল খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি।নিজের প্লেটে খাবার মজুদ থাকা সত্ত্বেও বন্ধুর প্লেট থেকে হাত টেনে খেতে যে কি মজা।আসলে বন্ধুর প্লেটেরে খাবারের স্বাদ বেশী।বন্ধুর হাত থেকে খাবার বাঁচাতে খাবারে থুতু দেয়াও মনে হয় অনেক ঘটে।

৪.এটা অবশ্যই কৈশোরের বন্ধুত্বের বৈশিষ্ট। ওই তোর কাছে আমি ৭টাকা ৪৩ পয়সা পাই, তোর কাছে পাই সাড়ে ১১টাকা।

৫. বন্ধুরা মিলে একসাথে মহা ভোজন দেয়া অতি আনন্দের ব্যাপার।তুই ১৮টা পরোটা খাইছ ,না তুইতো খাস নাই। এই কথাগুলো সব বন্ধুদের দলে হরহামেশাই শোনা যায়।

৬. প্রায় প্রতিটি বন্ধুদের দলে বলতে শোনা যায় আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের মত সার্কেল কমই আছে।

৭. দোস্ত কিছু টাকা ধার দে তো,পরের সপ্তাহে পেয়ে যাবি।অবস্থার পরিবর্তনের সাথে বলার ধরন পরিবর্তন হয় কেবল।

আজ আর ঠিক মনে আসছে না।আপনাদের আসলে জানাবেন।আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থাবেদধে আমরা আমাদের মা-বাবাকে বিভিন্ন নামে ডাকি।মা,আম্মু.মাম্মি……আব্বা,আব্বু,পাপা,বাজান……..কিন্তু সব জায়গায় প্রিয় বন্ধূর সম্বোধন এক “তুই”।কত ভাল লাগে তুই শুনতে। অথচ অপরিচিত কেউ বললে? সে জন্য সে বন্ধু। বন্ধুর সাথে দেখা হলে গায়ে দুএকটা লাগিয়ে, মুখে অশ্লীল গালি দিয়ে তারপর আমরা কথা আরম্ভ করি।অথচ কত মধুর সে সম্পর্ক।এটাই শান্তি,এটাই বন্ধুত্ব। জয় হোক বন্ধুত্বের ।
লিমন, দিনাজপুর থেকে :